Have a question? We Are Here to Help

সবাই কি হিজামা করতে পারবে? কার কাছে হিজামা করাবেন?

Hijama Planet > Blog > Uncategorized > সবাই কি হিজামা করতে পারবে? কার কাছে হিজামা করাবেন?

সবাই কি হিজামা করতে পারবে? কার কাছে হিজামা করাবেন?

আজকে ইউটিউবে আমি সার্জারী শিখে, কালকে আপনাদের লাইভে শিখাবো।
কে কে শিখবেন বলেন?
কি? অদ্ভুত লাগছে শুনতে? অসম্ভব লাগছে? আমাকে পাগল মনে হচ্ছে?
কেনো? আপনারাই তো খুব এক্সাইটেড লাইভে/ ইউটিউবে হিজামা শেখা নিয়ে। ফ্রি তে শিখতে পারবেন সুন্নাহ চিকিৎসা। সার্টিফিকেট বিহীন ডাক্তারী। মৃত সুন্নাহ জাগিয়ে তুলবেন। হিজামা তো সুন্নাহ, ইসলামিক চিকিৎসা, হাদিসে আছে তাই সমগ্র মুসলিম এর অধিকার আছে চর্চা করার। তাই না?
অবশ্যই আপনাদের হিজামা শেখা- করার অধিকার আছে। কিন্তু তাই বলে লাইভ দেখে? ইউটিউব দেখে? একবার রোগী হয়ে হিজামা করিয়ে, পরের দিন নিজেই রোগী দেখা?
না। আপনার এই হক নেই। চিকিৎসা বিদ্যায় জ্ঞ্যান অর্জন ছাড়া হাদিস আপনাকে অনুমতি দেয় না, সরকার ও দেয় না।
কারা হিজাম করতে পারবেনঃ
  1. ডাক্তাররা যেমন এমবিবিএস/ বিডিএস।
  2. দেশে বা বিদেশে হিজামা নিয়ে অন্তত পক্ষে ৬ মাসের কোর্স করা, এছাড়াও হিজামা নিয়ে এক/দুই/ তিন বছরের ডিপ্লোমা/অনার্স/পিএইচডি করা যারা আছেন তারা অগ্রাধিকার পাবেন।
  3. অন্যান্য অল্টারনেটিভ চিকিৎসকরা যেমন ফিজিওথেরাপিস্ট, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক হেকিম, হোমিওপ্যাথিস্ট
  4. মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট বা স্যাকমোরা।
  5. গ্রাম ডাক্তাররা।
  6. এছাড়াও যারা পর্যাপ্ত সময় কোন শায়খ বা শিক্ষক যিনি সঠিকভাবে হিজামা করতে পারেন তার কাছে থেকে যদি কেউ হিজামা করার অনুমতি প্রাপ্ত হন তবে সেও হিজামা করতে পারবে। এটা শরীয়ত সম্মত হলেও আইনসম্মত নয়।
অর্থাৎ যাদের অন্তত পক্ষে ৬ মাসের মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ড আছে তারাই প্রফেশনালি হিজামা করতে পারবেন- এটাই আমাদের সরকারী আইন বলে। আপনি যদি কোন মেডিকেল প্রফেশনাল না হন, অর্থাৎ সঠিকভাবে চিকিকিৎসা না শিখে থাকেন তাহলে ইসলামও আপনাকে চিকিৎসা করার অধিকার দেয় না। আর ওপরের যে কয়টি পয়েন্ট বললাম তাদের সবাইকেই হিজামা শিখে হিজামা করার আইনী অধিকার আছে। এই পয়েন্টটা নোট করবেনঃ হিজামা শিখতে হবে। আমাদের দেশে মাত্র চার- পাঁচজন ডাক্তারকে (এমবিবিএস/ বিডিএস) আমি চিনি যারা আসলেই হিজামা সাইন্স বোঝেন। আর যারা ডাক্তার নন তাদের হালত কি হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়।
আপনি শিখুন, পড়াশুনা করুন, কোর্স করুন, এমন কারো কাছে হাতে কলমে শিখুন যে নিজে অভিজ্ঞ কারো কাছে ট্রেনিং প্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন হিজামা করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। যার কাছে হিজামা করাচ্ছেন বা শিখছেন তাকে জিজ্ঞেস করুন আপনি হিজামা কার কাছ থেকে শিখেছেন? ইসলামে এই লার্নিং চেইনের কদর সবচেয়ে বেশি। চেইনে ব্রেক থাকলেই বুঝতে হবে সমস্যা আছে। যে হিজামা করছে বা যার কাছ থেকে শিখেছে তাদের একজনের যদি মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ড না হয় তাহলেই বিপত্তি বাঁধার সম্ভাবনা, হবে Malpraxis.
(MBBS/ BDS রা রেজিস্টার সার্জন তাদের আলাদা সার্টিফিকেট নিষ্প্রয়োজন, ডাক্তাররা যে কোন ভাবেই হিজামা শিখে ট্রিটমেন্ট শুরু করতে পারবেন)
হিজামা করতে প্রচুর পড়াশুনা করা লাগে।
  1. একজন থেরাপিস্ট কে রোগীর হিস্টোরি শুনতে হবে
  2. সাইন-সিম্পটম শুনে রোগ নির্নয় করতে হবে।
  3. রোগের প্যাথোজেনেসিস জানতে হবে।
  4. এনাটমি -ফিজিওলজি-ইন্ডিকেশান-কন্ট্রাইন্ডিকেশান ইত্যাদি মাথায় রেখে ট্রিটমেন্ট প্লান করতে হবে।
কি ভাবছেন? ট্রিটমেন্ট প্ল্যান তো গুগলে আছে মানবদেহের ছবির উপর লাল লাল ফোটা দেয়া রোগের নাম সহ কিংবা নম্বর আকারে?
আচ্ছা ধরেন একজন রোগী আসলো থাইরয়েড হরমোনের প্রবলেম। হাইপো/ হাইপার। সে হিজামা করাবে, তার ট্রিটমেন্ট প্লান কি দিবেন?
আপনার সেই গুগল বই তে তো আছে ৪-৫ টা পয়েন্ট। যতদূর মনে পরে, গলায় আর পিঠে পয়েন্ট গুলো। কিন্তু মাথায় যে একটা পয়েন্ট আছে সেটা বলে দেবে কে আপনাকে? মাথায় কেনো, কিসের পয়েন্ট, কি গ্ল্যান্ড, কি রিলিজ হয় তা কি লাইভে/ইউ টিউবে/ গুগলের সেই বই কিংবা আপনার নন মেডিকেল ট্রেইনার বলেছে?
আবার ধরেন, রোগী এসে বললো আমার থাইরয়েড হরমোনে প্রবলেম কিন্তু হাইপো নাকি হাইপার জানি না, রিপোর্ট আনিনি। এখন বলেন তো আপনি কিভাবে নির্নয় করবেন তার রোগ কোনটা? শুধুমাত্র কথা বলে কিংবা দেখে? টেস্ট করানো পরের কথা। কি? পারবেন?
ধরেন কারো পায়ে অবশ ভাব আছে, তো আপনি কাপ বসিয়ে দিলেন যে জায়গায় অবশ ভাব আছে সেখানে, কিন্তু পায়ের এখানে সাপ্লাই দেয় যে নার্ভ সেটা তো লাম্বার ভার্টিব্রা থেকে আসে। ওখানে ডিস্কের সমস্যার কারনে পায়ের সেনসেশান এ প্রবলেম, এটা কে বলবে?
আর ম্যালপ্র্যাক্সিস নিয়ে নতুন করে কি বলবো। রোগীরা আসেন ডাক্তারদের কাছে কম খরচে অমুক তমুক ছাতার মতো গজিয়ে উঠা হিজামা ক্লিনিক হতে। সুস্থ হন নি। কিন্তু সুন্নতে অগাধ বিশ্বাস। স্কিনে দেখি কি বড় বড় কাটা! স্কার মার্ক!

আর যারা আমাদের কাছে বা অন্য অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট এর কাছে যান না, তারা পরে হয়তো বলেন এটা চৌদ্দশ বছর আগের চিকিৎসা, এগুলোতে এখন আর কাজ হয় না।

মানুষকে আপনারা সুন্নতের দাওয়াত দিতে গিয়ে সুন্নাহ বিরোধি বানিয়ে ফেলছেন কিনা একবার তো খোঁজ নিন।
আরে ভাই-আপা! হিজামাতে কাটতে হয় না। স্ক্রাচ দিতে হয়। কাটাকুটি খেলে যে রোগীর শরীরে সারাজীবনের জন্য ক্ষত/ দাগ ফেলেছেন, তার জবাব আল্লাহ কে কি দিবেন?
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَرَاشِدُ بْنُ سَعِيدٍ الرَّمْلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ تَطَبَّبَ وَلَمْ يُعْلَمْ مِنْهُ طِبٌّ قَبْلَ ذَلِكَ فَهُوَ ضَامِنٌ ‏”‏ ‏.‏
আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোন ব্যক্তি চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন না করেই চিকিৎসা করলে সে দায়ী হবে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ) [৩৪৬৬]
(তাহকীক আলবানীঃ হাসান।)
যারা প্রাক্টিস করছেন আপনাদের হিজামার স্ক্রাচ নিয়ে জ্ঞান না থাকলে প্রয়োজনে আমাদের কাছে আসুন, দেখুন – শিখুন। অহেতুক ইগো আর ভুল জ্ঞান দিয়ে বেশীদূর যাওয়া সম্ভব নয়। টাকা দিয়ে কোর্স করতে হবে এমন নয়, যারাই হিজামা প্রাক্টিস করেন যেকোনো পরামর্শ, সহায়তার জন্য আমাদের নক করেছেন আমরা যথাসাধ্য সাহায্য করেছি, ইন শা আল্লাহ করবো।
হিজামার আচড় কেমন হবে জানতে পড়ুনঃ এ্যানাটমি অফ হিজামা কাটস
কাপের পুনঃব্যবহার বন্ধ করুন। বাসায় বাসায় গিয়ে যার তার বিছানায় নয়। একটি পরিচ্ছন্ন রুম নিন, গ্লাভস নিন, নতুন কাপ, নতুন ব্লেড নিন, পরিষ্কার গান নিন, রেক্সিনের বেডে ওয়ান টাইম বেড টিস্যু নিন, রোগীকে নির্দিষ্ট ক্লিন গাউন দিন, আপনিও গাউন বা এ্যাপ্রোন – মাস্ক পড়ুন। সার্জিকাল সাইট প্রিপারেশান এর মত স্কিন ক্লিন করুন আয়োডিন সলিউশান দিয়ে। হিজামা করুন প্রপার ওয়ে তে। শেষ হবার আগে কাপ খুলে রোগী ছেড়ে দেবেন না। আপনি জানেন তো হিজামা শেষ হয়েছে কি না কিভাবে বোঝা যায়?
ফেইসবুকে সমাধান নিতে আমাদের গ্রুপঃ HIjama Planet: Cupping and Ruqyah Center
শুধুমাত্র মহিলাদের জন্যঃ Hijama Planet (Sister’s only)
চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে তাই মজা নয় প্লিজ। মানুষের জীবন, মানুষের রোগ, মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা নয় প্লিজ।
শিখুন। পড়ুন। জ্ঞান বাড়ান।
ট্রেনিং নিয়ে হিজামা প্রাক্টিস করুন সুন্নাহ হিসেবে কিন্তু ফিজিশিয়ান বা সার্জন বা মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ডের না হলে রোগীর রোগের চিকিৎসা হিসেবে হিজামা করবেন না প্লিজ।
অন্যথায় সৌদি আরব কিংবা দুবাই এর মতো নন মেডিকেল দের জন্য হিজামা প্রাক্টিস ব্যান হতে সময় লাগবে না।
এদেশের মানুষ সেক্যুলার বেশী, আপনাদের ভুল পদক্ষেপ আর ধর্ম ব্যবসার জন্য যেন এই নববী চিকিৎসার দুর্নাম না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।
আপনারা আরো আরো হিজামা শিখুন,করুন, সেন্টার দিন এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি যখন হিজামা শুরু করি তখন ধারনা ছিলো না মানুষ কিভাবে গ্রহন করবে, কত ইনকাম হবে। মৃত সুন্নাহ এর পুনঃজাগরণ, প্রচার, প্রসারের লক্ষ্যেই শুরু করি। মাসে পাঁচ সাতজন রোগী হত তখন। আর এখন আমাদের ব্রাঞ্চের সংখ্যাই এর চেয়ে বেশি।
অর্থ উপার্জনের জন্য তো আমাদের ডেন্টাল ডিগ্রীই কাফি। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা ডেন্টাল আর একজন ডেন্টাল সার্জনের ইনকাম মাশা আল্লাহ খুব ভাল। আর আমাদের ডেন্টাল ক্লিনিক Tooth Planet দেশের অন্যতম ও সেরা প্রতিষ্ঠানের একটি যেখানে আন্তর্জাতিক মানের কাজ হয়।
তাই হিজামা চর্চার আগে নিয়ত পরিবর্তন করুন। আগে শিখুন, তারপর চিকিৎসা দিন নিজের দায়বদ্ধতা থেকে।
আর রোগীরা সোচ্চার হন, সজাগ হন। যত্রতত্র ভাবে আর চিকিৎসা সেবা আর নয়। ডাক্তার দেখাতে যেমন ডিগ্রী দেখেন, তেমন হিজামা করাতেও প্রয়োজনে ডিগ্রী যাচাই করুন। “দীর্ঘ এতো বছর মিডল ইস্টে হিজামা করেছি” এটা কোনো ডিগ্রী নয়। অমুকের ক্লিনিকে সহকারী ছিলাম কোনো ডিগ্রী নয়। অমুক কলেজের স্যার হিজামা দেখিয়ে দিয়েছে কোনো ডিগ্রী নয়। তাদের অনুমতি পত্র দেখাতে পারলে ঠিক আছে, যে তারা ওনার স্কিল ও জ্ঞান দেখে হিজামার অনুমতি দিয়েছে। যারা অনুমতি দিয়েছে তাদের স্বীকৃত কোন মেডিকেল ডিগ্রী থাকা বাঞ্ছনীয়।
কাপ দেখে বুঝে নিন নতুন না পূর্বে ব্যবহৃত। ব্যবহৃত কাপ ঘোলা হয়। হিজামায় ব্যবহৃত জিনিষ মাটিতে পুতে ফেলার কঠোর নির্দেশনা আছে হাদিসে। আমরা আমাদের ক্লিনিক Hijama Planet: Cupping & Ruqyah Center এ সর্বদা ডিসপজেবল সামগ্রী ব্যাবহার করি। ডিসপোজেবল কাপ কিনতে যোগাযোগ করুন এখানেঃ হিজামা করতে কি কি যন্ত্রপাতি লাগে আর সেগুলো কোথায় পাওয়া যায়?
উপযুক্ত স্টেরিলাইজেশন এর অভাবে আপনার হতে পারে এইচ আইভি/ হেপাটাইটিস সংক্রমণ। পচন ধরতে পারে পায়ে। ভাবছেন বানিয়ে বলছি? সারা দেশ থেকে এই ধরনের তথ্য পাই আমরা। তাই সজাগ হন আজই।
লিখেছেনঃ Dr. Effat Saifullah
—————–Copyright——————-
©Dr. Mohammad Saiful Alam Talukder। এই লেখা বা লেখার কোন অংশ লেখকের অনুমতি ব্যাতীত প্রচার ও প্রকাশ করা নিষেধ। অনুমতি সাপেক্ষে প্রকাশ করলে লেখকের নাম ব্যাবহার করতে হবে। শুধু লাইক ও শেয়ার বাটন ব্যাবহার করার জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই। শরীয়াহ আমাকে এই অধিকার দিয়েছে। কেউ অনুমতি ব্যাতীত প্রচার ও প্রকাশ করলে দায়ী হবেন।
—————–Copyright——————-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *